গাইবান্ধায় সুন্দরগঞ্জে বিয়ের দাবিতে ভাতিজার বাড়িতে চাচির অনশন, প্রেমিক পলাতক

 


বিয়ের দাবিতে ভাতিজার বাড়িতে ৬ দিন ধরে অবস্থান নিয়েছেন এক নারী। আর চাচিকে রেখে চম্পট দিয়েছে প্রেমিক ওই ভাতিজা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় এলাকায় দেখা দিয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠানে এলাকাবাসীর ভিড় লেগে আছে। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের দেখে ভাতিজার পরিবারের লোকজন বাড়ির ফটক বন্ধ করে দেন। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, এখনো বাড়ির ভেতরেই আছেন ওই চাচি।

ঘটনাটি ঘটেছে, গত শনিবার (১৮ অক্টোবর) গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপড়হাটি ইউনিয়নের উত্তর মরুয়াদহ গ্রামের ব্যাপারীপাড়ায়। চাচি রুবিনা খাতুন (২৫) ওই গ্রামের মাইদুল ইসলামের স্ত্রী এবং তিনি দুই সন্তানের জননী। আর ভাতিজা আব্দুল আজিজ (২০) মাইদুল ইসলামের আপন চাচাতো ভাই গণি মোল্লার ছেলে। ঘটনার তৃতীয় দিনে রুবিনাকে তালাক দিয়েছেন স্বামী মাইদুল ইসলাম। এদিকে, গত ৬ দিনেও বিষয়টির কোনো সমাধান না হওয়ায় প্রেমিক ভাতিজার পরিবারের যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানায়, পাশাপাশি বাড়ি হওয়ায় চাচি রুবিনা ও ভাতিজা আব্দুল আজিজ যাতায়াত করতেন অনায়াসে। আর এ সুবাদে গড়ে ওঠে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক। স্থানীয়দের দাবি দুই-তিন বছর ধরে এ সম্পর্ক চলায় এর আগেও ওই চাচি গিয়ে উঠেছিলেন মোল্লাবাড়িতে। তখন তাকে বুঝিয়ে বাড়িতে ফেরত পাঠাতে পারলেও এবার বিয়ের দাবিতে ভাতিজার বাড়িতে অনড় অবস্থান নিয়েছেন তিনি। এদিকে বিপদ আঁচ করতে পেরে পালিয়েছেন প্রেমিক আব্দুল আজিজ। এ ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে দেখা দেয় চাঞ্চল্য।

ভিডিওতে ওই নারীকে বলতে শোনা যায়, তিনি প্রেমিক ভাতিজার হাত ধরে বলেছিলেন তাকে (রুবিনা) বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে তার স্বামী। সে আর রাখবে না তাকে। তিনি আরো বলেন, তাকে অভয় দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন ভাতিজা। পরে রুবিনাকে অস্বীকার করলে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে ওঠেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, নারী-পুরুষের ভিড় যেন জমে উঠেছে ওই পাড়ায়। চাচি-ভাতিজার সম্পর্কের ঘটনার জেরে এ কয়েকদিন শান্ত থাকলেও এখন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এর সমাধান না হওয়ায় তারা বন্ধ করে দিয়েছেন আব্দুল আজিজের পরিবারের যাতায়াতের পথ। এদিকে, মোল্লা বাড়িতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের দেখা মাত্রই বাড়ির ভেতর থেকে গেট বন্ধ করে দেন আজিজের পরিবারের লোকজন। গেটের সামনে থাকা গণি মোল্লার ভাতিজা বলেন, রুবিনা এখনো ওই বাড়িতে আছে। কিন্তু কাউকে ঢোকা বা রুবিনার সাথে কথা বলা নিষেধ করে দিয়েছেন আব্দুল আজিজের বাবা গণি মোল্লা।

সায়েদ আলী নামের এক স্থানীয় বলেন, মা কে আর চাচি কে? সবাই তো এক। এর বিচার হওয়া উচিত।

রাস্তা বন্ধের বিষয়টি জানতে চাইলে অপর আরেক স্থানীয় বলেন, গত শনিবার মেয়েটি ওই বাড়িতে উঠেছে। দশের কাছে বিচার দিলেও সময় নষ্ট করছেন তারা। দশজনকে এভাবে অপমান করার জন্য বাধ্য হয়ে আমরা সবাই মিলে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি তাদের। বাদি করেছি সমাজ থেকে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ছাপড়হাটি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মো. আনছার আলী বলেন, বুধবার বিষয়টি জেনেছি গণি মোল্লার নিকট থেকে। বিকেলে গিয়েছিলাম তার বাড়িতে। তারা সম্পর্কে চাচি-ভাতিজা। মেয়েটি জানিয়েছে তাদের সম্পর্ক দুই-তিন বছর ধরে। শনিবার থেকে ওই মহিলা গণি মোল্লার বাড়িতে আছে। কিন্তু ভাতিজা তো পালিয়েছে। আর সেখানে আসার তিন দিনের মাথায় তার স্বামী তাকে তালাক দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাপড়হাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কনক কুমার গোস্বামী বলেন, বিষয়টি এখনো তিনি জানেন না এবং এখন পর্যন্ত কেউ তাকে অবহিত করেননি। তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতেও চাননি তিনি।


সূত্রঃ ডিআরডি নিউজ 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ