গাইবান্ধায় তালাকের ক্ষোভে সৎ ছেলেকে শ্বাসরোধে হত্যা: র‍্যাবের অভিযানে প্রধান আসামি সৎ মা গ্রেপ্তার

 


গাইবান্ধায় তালাকপ্রাপ্ত হওয়ার ক্ষোভ থেকে সৎ ছেলে শরিফ রহমান শুভকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি সৎ মা মোছাঃ শেফা বেগমকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। গত মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় পাবনা সদরের দিলালপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত শেফা বেগম গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার পূর্ব অনন্তপুর গ্রামের মৃত আমির উদ্দিন মুন্সীর মেয়ে।

মামলার এজাহার ও র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, আসামি শেফা বেগম ছিলেন ভিকটিম শরিফ রহমান শুভর বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী। দীর্ঘদিন আগে ভিকটিমের বাবা তাকে তালাক দেন। এই তালাকের ক্ষোভ থেকে শেফা বেগম ভিকটিমের ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজছিলেন। এরই জের ধরে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ বিকেল থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালের মধ্যে তিনি ও তার সহযোগীরা মিলে শুভকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরবর্তীতে হত্যার ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে এবং একে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে ভিকটিমের মরদেহ গাছের ডালের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

এ ঘটনায় শুরুতে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়। পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর গত ২ সেপ্টেম্বর ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং- ০৩/৩২৪) দায়ের করেন।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচারিত হলে র‍্যাব বিষয়টি নিয়ে ছায়াতদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৩ (সিপিসি-৩, গাইবান্ধা) এবং র‌্যাব-১২ (সিপিসি-২, পাবনা) এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে পাবনা সদরের দিলালপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি শেফা বেগমকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‍্যাব জানিয়েছে, হত্যা ও সহিংসতার মতো অপরাধ দমনে তাদের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ