রংপুরের পীরগাছায় প্রশংসাপত্র ও নম্বরপত্র আটকে কোচিং ফি আদায়; প্রধান শিক্ষক ও লাইব্রেরিয়ানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

 


রংপুরের পীরগাছায় কোচিং বাণিজ্যের পাওনা টাকা আদায়ে শিক্ষার্থীদের সনদ ও নম্বরপত্র জিম্মি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দামুর চাকলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খন্দকার ফখরুল ইসলাম ও লাইব্রেরিয়ান এমদাদুল হক মিলনের বিরুদ্ধে এই ‘সনদ বাণিজ্য’ সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী অভিভাবকরা। দরিদ্র এক ভ্যানচালক সুদে টাকা এনেও রেহাই পাননি, উল্টো দম্ভ প্রকাশ করে প্রধান শিক্ষক বলেছেন, ‘সার্টিফিকেট যাকে খুশি দেব, আমি না দিলে কারো কিছু করার নেই।’

ভ্যানচালকের অসহায় আর্তনাদ

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে গত বুধবার (গতকাল), যখন বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বাবা মোহারম আলী জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। পেশায় ভ্যানচালক মোহারম আলী জানান, ছেলের প্রশংসাপত্র আনতে গেলে লাইব্রেরিয়ান মিলন ২২ হাজার টাকা দাবি করেন। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সুদে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পরিশোধ করার পর প্রশংসাপত্র মেলে। কিন্তু এখন বাকি টাকার জন্য মূল নম্বরপত্র আটকে দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষকের ঔদ্ধত্য ও অবৈধ কোচিং স্বীকারোক্তি

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খন্দকার ফখরুল ইসলাম নজিরবিহীন ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি প্রধান শিক্ষক। সার্টিফিকেট যাকে খুশি দিতে পারি। আমি যদি না দিই, কারো কিছু করার নেই। সাংবাদিকরা যা লেখার লেখেন।”

অন্যদিকে, অভিযুক্ত লাইব্রেরিয়ান এমদাদুল হক মিলন দাবি করেন, ওই শিক্ষার্থী তার কোচিংয়ে পড়ত। কোচিংয়ের বকেয়া টাকা আদায়ের জন্যই তিনি প্রশংসাপত্র আটকে রেখেছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষক হয়েও কোচিং বাণিজ্যের বিষয়টি তিনি নিজেই স্বীকার করে নিলেন।

নেপথ্যে আত্মীয়করণের প্রভাব

স্থানীয়দের অভিযোগ, লাইব্রেরিয়ান মিলন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নিকটাত্মীয় হওয়ায় বিদ্যালয়ে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য চলছে। অভিযোগ রয়েছে, মিলন ও তার স্ত্রী অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি করান এবং পরে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন। এই অরাজকতার কারণে স্থানীয় অভিভাবকরা এখন ওই বিদ্যালয় থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি

এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক স্পষ্ট জানান, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষকের কোচিং পরিচালনা সম্পূর্ণ অবৈধ। টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের নম্বরপত্র বা সনদ আটকে রাখার কোনো নিয়ম নেই। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ