রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার কাফ্রিখাল ইউনিয়নে গ্রাম্য সালিশকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের মারধরে নুরুজ্জামান নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি নুরুজ্জামানের মা লিলি বেগমের সঙ্গে প্রতিবেশী মোছন আলীর স্ত্রী রাহিমা বেগমের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরদিন ৬ ফেব্রুয়ারি ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি মীমাংসার নামে ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে প্রতিবেশী মহুবারের উঠানে একটি গ্রাম্য সালিশ ডাকা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ইকবালপুর গ্রামের ফাকরুল, রবিউল ও সাইদুল সালিশের নেতৃত্ব দেন এবং লিলি বেগমকে সেখানে উপস্থিত হতে চাপ প্রয়োগ করেন। সালিশে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় রবিউল, সাইদুল ও আলামিন তাকে শাসাতে থাকেন। একপর্যায়ে লিলি বেগম সালিশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে পথিমধ্যে রাহিমা বেগম, তার মেয়ে জামাই জাহাঙ্গীর আলম এবং তার দুই বোন আরজিনা ও রনজি বেগম লিলি বেগমের ওপর হামলা চালান।
এ সময় মাকে বাঁচাতে ছেলে নুরুজ্জামান এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকেও কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদিকে অসুস্থ অবস্থায় লিলি বেগম বাড়িতে ফিরতে চাইলে সালিশদাররা জোরপূর্বক তাকে বিচারে বসিয়ে লোক দেখানো একটি মীমাংসা সম্পন্ন করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
নুরুজ্জামানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে ভ্যানযোগে মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহত নুরুজ্জামানের স্ত্রী ছালমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জড়িত কথিত সালিশদার ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানান।
কাফ্রিখাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, এই ধরনের কোনো সালিশের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদকে কিছুই জানানো হয়নি। কিছু টাউট প্রকৃতির লোক নিজেদের স্বার্থে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, নিহতের মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 মন্তব্যসমূহ