১৬ বছর প্রতীক্ষার পর একমাত্র ছেলের জন্ম, ৭ মাস বয়সে প্রাণ গেল হামের উপসর্গে


 দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষা। তিনটি কন্যাসন্তানের পর দম্পতির কোলজুড়ে এসেছিল একটি পুত্রসন্তান। আনন্দ আর উল্লাসে মেতে উঠেছিল পুরো পরিবার। কিন্তু সেই আনন্দ স্থায়ী হলো না সাত মাসের বেশি। হামের উপসর্গ নিয়ে যমে-মানুষে লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেল ছোট্ট সাজিদ আল নাহিয়ান।

রোববার (১৭ মে) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। সাজিদ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সিংরাইশ গ্রামের পারভেজ আহমেদ সুমনের ছোট ছেলে। চার ভাইবোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, পারভেজ আহমেদ সুমন ও সুলতানা আক্তার দম্পতির বিয়ে হয় দীর্ঘ ১৮ বছর আগে। বিয়ের পর তাদের ঘরে একে একে তিনটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। তবে একটি ছেলে সন্তানের আশায় দীর্ঘ ১৬ বছর প্রতীক্ষায় ছিলেন এই দম্পতি। গত বছরের নভেম্বরে সাজিদের জন্মের মধ্য দিয়ে পূরণ হয়েছিল সেই দীর্ঘ লালিত স্বপ্ন। কিন্তু মাত্র ৭ মাস বয়সেই নিভে গেল সেই প্রাণের প্রদীপ।

অসুস্থতা ও করুণ পরিণতির বর্ণনা:

নাহিয়ানের বাবা পারভেজ আহমেদ জানান, গত ১৪ এপ্রিল প্রথম সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয় সাজিদ। স্থানীয় এক চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর পর সে কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠে। কিন্তু গত ১২ মে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় প্রথমে ফেনীর একটি হাসপাতাল এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শিশু হাসপাতাল ও ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সবশেষ তেজগাঁওয়ের ইনপালস্ হসপিটালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ তোফায়েল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শিশুটিকে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়। দুর্ভাগ্যবশত চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।

রোববার বিকেলে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে শিশু সাজিদকে দাফন করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাওয়া একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায় তার মা-বাবা। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ