পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক দায়বদ্ধতা আর পাঁচ বছরের সন্তানের মায়া সবকিছুকে পেছনে ফেলে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে ভাতিজার সঙ্গে ঘর ছেড়েছেন এক গৃহবধূ। ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের গবরাপাড়া গ্রামের এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে মায়ের জন্য ছোট্ট এক শিশুর কান্না এবং একটি পরিবারের ভাঙনের গল্প নাড়া দিয়েছে স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ জুন রাত থেকে গবরাপাড়া গ্রামের সানজেদুর রহমান (ছল্টু) জোয়ার্দারের স্ত্রী রুমানা ইসলাম এবং তার আপন বড় ভাইয়ের ছেলে হাসান নিখোঁজ রয়েছেন। প্রথমদিকে পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালালেও তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই রুমানার পাঁচ বছরের কন্যাসন্তানটি মায়ের জন্য বারবার কান্নাকাটি করছে। শিশুটির এমন অবস্থায় পরিবারও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রুমানা ও হাসানের সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই নানা আলোচনা ছিল। ঈদুল ফিতরের পরও তারা একবার বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে রুমানাকে স্বামীর সংসারে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে সেই সমাধান স্থায়ী হয়নি বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
ভুক্তভোগী স্বামী সানজেদুর রহমান জানান, আট বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। হাসান সম্পর্কে তার আপন ভাতিজা এবং দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, সেই সুযোগেই দুজনের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার দাবি, ঘর ছাড়ার সময় রুমানা নগদ প্রায় তিন লাখ টাকা এবং প্রায় তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যান।
অন্যদিকে, হাসানের বাবা ছেলের এমন কর্মকাণ্ডে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। এমন ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে হাসান ও রুমানার ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শামসুল আলম বলেন, “এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি পরিবারের সংকট নয়, এটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়েরও প্রতিচ্ছবি। পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষায় সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।”
এ বিষয়ে হরিণাকুণ্ডু থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অসিত কুমার রায় জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

0 মন্তব্যসমূহ