পঞ্চগড় -২ (বোদা- দেবীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই এক মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন। তিনি সরকারিভাবে প্রাপ্ত নিজের সম্পূর্ণ বেতন -ভাতার অর্থ থেকে জেলার ছয়টি জুলাই যোদ্ধা পরিবারকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থিক সহায়তা প্রদান করে আসছেন। বাকি দুটি পরিবারের দুই সদস্যকে সরকারি চাকরি দিয়ে সন্মান জানিয়েছেন তিনি।
জানা যায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের পরিদর্শন কক্ষে অফিস সহায়ক নিয়োগের বিধান রয়েছে। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এই পদগুলোতে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। তাঁর বিশেষ সুপারিশে বোদা-দেবীগঞ্জ দুই উপজেলায় সংসদ সদস্যদের পরিদর্শন কক্ষের জন্য জুলাই শহীদ পরিবারের দুই সদস্যকে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং তাদের পরিবারের কর্মসংস্হান নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
ইতোমধ্যে বোদা উপজেলা পরিষদের সংসদ সদস্যের পরিদর্শন কক্ষে অফিস সহায়ক হিসেবে যোগদান করেছেন সাকোয়া ইউনিয়নের জুলাই শহীদ সুমনের বোন। অন্যদিকে, দেবীগঞ্জ উপজেলার পরিদর্শন কক্ষে যোগদান করেছেন মারেয়া ইউনিয়নের জুলাই শহীদ আবু সাইদের ছেলে মামুন ইসলাম।এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীৎ শাহ বলেন, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি মহোদয়ের নির্দেশনা ও সুপারিশক্রমে জুলাই শহীদ আবু সাইদের ছেলে মামুন ইসলামকে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
একই কথা জানান, বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রীর সুপারিশক্রমে সাকোয়া ইউনিয়নের জুলাই শহীদ সুমনের বোনকে বোদা উপজেলা পরিষদের এমপি পরিদর্শন কক্ষে অফিস সহায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রতিমন্ত্রীর এই মহতী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। জুলাই শহীদ পরিবারের প্রতি এ ধরনের সম্মান ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ মহোদয় এক দায়িত্বশীল ও মানবিক পরিচয় দিয়েছেন।
এ বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, আমরা যেমন মহান '৭১-কে হৃদয়ে ধারণ করি, তেমনি '২৪-এর চেতনাকেও ধারণ করি। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই শপথ গ্রহণের পর সরকারিভাবে যে সম্মানি (বেতন) পাই, তা থেকে প্রতি মাসে জেলার চারটি জুলাই যোদ্ধা পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে সহায়তা দিয়ে আসছি। পাশাপাশি বাকি দুই পরিবারের দুই সদস্যকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অফিস সহায়ক পদে চাকরির ব্যবস্হা করার নির্দেশ দিয়েছিলাম, যা বাস্তবায়িত হয়েছে। শহীদ পরিবারের পাশে থাকা আমাদের সকলের নৈতিক দ্বায়িত্ব।

0 মন্তব্যসমূহ