পঞ্চগড়ে পরকীয়ার জেরে স্বামীকে বি'ষ খাইয়ে হ/ত্যা/র অভিযোগ, স্ত্রী আটক

 

পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের শিংরোড প্রধানপাড়া গ্রামে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে দিয়ে স্বামীকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মৌসুমী আক্তার (২৫) নামে ওই স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত আলম হক (৩০) একই এলাকার তোসলিম উদ্দীনের ছেলে।

আজ সোমবার বিকেলে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলম হকের সঙ্গে মৌসুমী আক্তারের প্রায় ৯ বছরের দাম্পত্য জীবন ছিল। শনিবার রাতে স্ত্রীর হাতে ভাত খাওয়ার পর হঠাৎ অস্বস্তি অনুভব করেন আলম। এরপর তার পেটে ব্যথা শুরু হয় এবং তিনি বমি করতে থাকেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি বিষ খেয়েছেন বলে ধারণা করছেন বলে জানান।

অভিযোগ রয়েছে, পরিবারের সদস্যরা জড়ো হওয়ার পর পানি খাওয়ানোর কথা বলে শরবতের সঙ্গে আরও ওষুধ মিশিয়ে আলমকে খাওয়ানো হয়। এতে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে পাঠান। তবে রংপুর নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

গতকাল রোববার পরিবারের পক্ষ থেকে পঞ্চগড় সদর থানায় বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ মরদেহের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে। পরে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ নিজ এলাকায় দাফন করা হয়। তবে দাফনের একদিন পর সোমবার স্থানীয়দের কাছে মৌসুমী আক্তার তার স্বামীকে ওষুধ খাওয়ানোর কথা স্বীকার করেন বলে অভিযোগ করেন নিহতের স্বজনরা। স্থানীয়দের দাবি, একই গ্রামের বাবুল নামে এক ব্যক্তির নির্দেশেই তিনি স্বামীকে ওষুধ খাইয়েছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা জড়ো হন। পরে পঞ্চগড় সদর থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৌসুমী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

নিহতের স্ত্রী মৌসুমী আক্তার ওষুধ খাইয়ে মারার ঘটনা সততা স্বীকার করে জানান, আমাদের এলাকার বাবুল নামে এক ব্যক্তি তাকে প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করতেন। তিনি মোবাইল ফোনে কল দেওয়ার পাশাপাশি ইমু ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে দেখা করার জন্য চাপ দিতেন। আমার স্বামীকে ওষুধ খাওয়ানোর জন্য ওই বাবুল আমাকে ওষুধ দিয়েছিল। আমাকে বলেছিল, এটা ঘুমের ওষুধ, কিছু হবে না। বাবুল আমাকে বলেছিল, ওষুধ না খাওয়ালে আমার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে যাবে ভয়ে আমি ওষুধ খাওয়াই।

নিহত আলম হকের ছোট বোন বলেন, আমার ভাবি আমার ভাইকে এভাবে বিষ খাইয়ে মারল, এটা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। সে অন্য কারও সঙ্গে চলে যেতে চাইলে চলে যেতে পারত। কিন্তু আমার ভাইকে মেরে ফেলল কেন? আমরা এর বিচার চাই।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। গতকাল পরিবারের পক্ষ থেকে একটি ইউডি মামলা করা হয়েছিল। আজ স্থানীয়রা ফোন করে জানায়, মৃত আলমের স্ত্রী নাকি ঘটনার বিষয়ে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৌসুমী আক্তার নামে একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ