পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নে হাসিনা হ-ত্যা: ১২ ঘণ্টায় অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি


 পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ১নং চিলাহাটি ইউনিয়ন ধানক্ষেতের আইল থেকে নুরবানু ওরফে হাসিনা (৫০) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে মাহাবুল হক (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে মাহাবুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেপ্তার মাহাবুল হক দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের বালাপাড়া বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় মাহিন্দ্র গাড়ির চালক।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টার দিকে দেবীগঞ্জ থানায় খবর আসে, চিলাহাটি ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইলে এক নারীর মরদেহ পড়ে আছে। খবর পেয়ে দেবীগঞ্জ থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।

পুলিশ সুপার, পঞ্চগড়ের সার্বিক নির্দেশনায় ডিবি পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে মাহাবুল হকের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১টা থেকে ১টা ৫ মিনিটের মধ্যে দেবীগঞ্জ থানার ভাউলাগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে মাহাবুল হককে হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।

পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্যে মাহাবুল জানান, নিহত নুরবানু ওরফে হাসিনা তার প্রতিবেশী। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়। ঘটনার রাতে হাসিনার ফোন পেয়ে তিনি ধানক্ষেতের আইলের কাছে যান। সেখানে দুজনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের একপর্যায়ে হাসিনা অসুস্থ বোধ করলে তাকে আইলের ওপর শোয়ানোর সময় ঘাড়ে আঘাত লাগে বলে মাহাবুল পুলিশকে জানান। পরে তিনি হাসিনাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে পুলিশের কাছে দাবি করেন।

পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার পর মাহাবুল নিহতের মোবাইল ফোন থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগের কিছু তথ্য মুছে দিয়ে ফোনটি আবার তার পোশাকে রেখে বাড়িতে চলে যান। পরবর্তী সময়ে রাত ও সকালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন বলেও পুলিশকে জানান।

পুলিশের দাবি, ঘটনার বিষয়ে মাহাবুল হক ২৬ সেপ্টেম্বর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এ ঘটনায় নিহত হাসিনা বেগমের ছেলে মো. হাচিনুর রহমান মিঠু বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


সোর্স: সময়বৃত্ত 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ